গোল্ড প্রাইস লাইভ বিডি

Gold Price Head To Head

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের পূর্ণাঙ্গ তুলনা, বাজার বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত তথ্য — সব এক জায়গায়।

পরিচিতি

সোনার দামের ধারাবাহিক তুলনা

স্বর্ণের বাজার সবসময় পরিবর্তনশীল। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা, ডলারের বিনিময় হার, স্থানীয় চাহিদা এবং সরকারী নীতিমালার উপর ভিত্তি করে প্রতিদিন সোনার দাম উঠানামা করে। এই পৃষ্ঠায় আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সোনার দামের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক তুলনা উপস্থাপন করি।

আপনি যদি সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, অথবা বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাহলে সঠিক সময়ে সঠিক দাম জানা অত্যন্ত জরুরি। নিচের টেবিল ও বিশ্লেষণ আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ড: $2,350.50/আউন্স
স্বর্ণের বার (Gold bars)
বিশুদ্ধ সোনার বার — বিনিয়োগের জনপ্রিয় মাধ্যম

সাম্প্রতিক সোনার দাম: হেড টু হেড

বাংলাদেশের বাজারে প্রতিটি গ্রাম সোনার দাম (টাকায়)

ক্যারেট আজকের দাম (৳) গত সপ্তাহে (৳) গত মাসে (৳) পরিবর্তন
২৪ ক্যারেট ৳ 12,345 ৳ 12,100 ৳ 11,850 +4.2%
২২ ক্যারেট ৳ 11,320 ৳ 11,090 ৳ 10,860 +3.8%
২১ ক্যারেট ৳ 10,800 ৳ 10,580 ৳ 10,350 +3.5%
১৮ ক্যারেট ৳ 9,260 ৳ 9,070 ৳ 8,875 +3.3%

* এখানে প্রদর্শিত দাম বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষিত বাজার দরের উপর ভিত্তি করে। প্রকৃত দাম অলঙ্কারের নকশা, শ্রম খরচ ও বিক্রেতার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

কেন সোনার দাম বাড়ছে?

গত এক মাসে বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম গড়ে প্রায় ৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

  • মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি — ডলারের মূল্য বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, ফলে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বেড়ে যায়।
  • আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধি — বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, বিশেষ করে চীন ও ভারতে।
  • মুদ্রাস্ফীতি — যখন মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
  • ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা — যেকোনো অস্থির পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম বর্তমানে প্রতি আউন্স প্রায় $2,350। বাংলাদেশের বাজারে এই দামকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে তার সাথে আমদানি শুল্ক, পরিবহন খরচ এবং ব্যবসায়ীদের লাভ যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদ এর তথ্য অনুযায়ী, চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যই এই দাম নির্ধারণের মূল চালিকা শক্তি।

সোনার দামের চার্ট এবং বিশ্লেষণ
সোনার দরের চার্ট — বাজার বুঝতে সহায়ক

আন্তর্জাতিক বাজার বনাম বাংলাদেশের বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম স্পট গোল্ড হিসেবে প্রতি আউন্স ডলারে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রতি গ্রামের দাম টাকায় ধরা হয়। এই দুই বাজারের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

আন্তর্জাতিক বাজার

লন্ডন, নিউ ইয়র্ক এবং জুরিখের মতো শহরে সোনার দর নির্ধারিত হয়। এখানে দাম নির্ধারিত হয় সরাসরি সরবরাহ-চাহিদার ভিত্তিতে, কোনো স্থানীয় কর বা শুল্ক নেই।

বাংলাদেশের বাজার

স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক দরের সাথে যুক্ত হয় আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (VAT), পরিবহন খরচ, এবং ব্যবসায়ীদের লাভ। এ কারণে স্থানীয় বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

সাধারণ প্রশ্নাবলী

সোনার দাম প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। ডলারের বিনিময় হার, সুদের হার এবং বাজারের চাহিদা-যোগানের ভিত্তিতে এই দাম নির্ধারিত হয়।

২৪ ক্যারেট সোনায় ৯৯.৯% খাঁটি সোনা থাকে, যেখানে ২২ ক্যারেট সোনায় ৯১.৬% খাঁটি সোনা থাকে। বাকি অংশ থাকে তামা বা অন্যান্য ধাতু। তাই ২৪ ক্যারেটের দাম বেশি।

বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে স্থানীয় চাহিদা এবং সরকার নির্ধারিত শুল্কের ভিত্তিতে এই দাম ঠিক করা হয়।